চতুর্তিশষ্ঠ অধ্যায় : ফুল ও করতালি

আমি তো পাঁচজন影ের সঙ্গে কঠিন লড়াই করেছি, এখনই সিস্টেম আসছে। ক্যাম্ব্রিয়ান আলো 2515শব্দ 2026-03-20 08:22:22

আট-লেজ বিশিষ্ট দানব, সূক্ষ্ম অনুভূতির অধিকারী গিউকি একটানা তিনবার ‘অত্যন্ত’ শব্দটি উচ্চারণ করে কিরাবিকে সতর্ক করল, এতে তার মনে কতটা ভয় ও সতর্কতা কাজ করছিল তা স্পষ্ট।
কিরাবি কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেল।
এত বছরেও সে কখনো গিউকিকে এমনভাবে কথা বলতে শোনেনি।
তার বড় ভাইয়ের ব্যাপারেও গিউকির মূল্যায়ন ছিল, সে মাত্র তৃতীয় রাইকাগের চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে নেই।
তৃতীয় রাইকাগ কিন্তু নিজ হাতে একবার তার একটি শিং কেটে ফেলেছিল।
তবুও, তখনও গিউকি এমন আতঙ্কিত ও সতর্ক হয়নি।
হ্যাঁ, এবার সে সত্যিই শঙ্কিত।
সহজে বোঝাপড়া হয় এমন সঙ্গী হিসেবে, কিরাবি অনুভব করতে পারল, হাগোরোমো গেনগেতসু সেখানে নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকলেও, গিউকির মনে প্রবল অস্থিরতা কাজ করছে।
কিরাবি বুঝতে পারছিল না, গেনগেতসু জীবিত কালে বিখ্যাত ছিল বটে, কিন্তু এখন তো সে এক মৃত আত্মা মাত্র, এই অবস্থায় তার এবং বড় ভাইয়ের শক্তি মিলিয়ে এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
তাহলে গিউকি কেন এতটা আতঙ্কিত?
‘‘তার মুখটা দেখো!’’ গিউকি সতর্ক করল।
কিরাবি অজান্তেই তাকাল।
অভিপ্রায়হীনভাবে তরুণ।
আর তার মতোই, অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
তাতে কি সমস্যা?
কিরাবি মুখ খুলে প্রশ্ন করতে যাচ্ছিল।
হঠাৎ!
তার মাথায় কিছু একটা খেলে গেল।
কিরাবি থুতনিতে হাত বুলিয়ে বলল,
‘‘আমার মনে আছে... সম্ভবত... কোথাও পড়েছিলাম, মৃতদের পুনর্জীবনের জাদুতে তাদের দেহে ফাটলের ছাপ পড়ে থাকে।’’
‘‘কিন্তু সামনে দাঁড়ানো এই লোকটা তো একদম আলাদা!’’
কিরাবি এবার পুরোপুরি সচেতন হলো, দুই হাতে চটি মেরে, আঙুল তুলে চমকে উঠল—
‘‘পেয়েছি!’’
গেনগেতসুর দৃষ্টি কিরাবি থেকে সরে গিয়ে চতুর্থ রাইকাগে আইয়ের দিকে গেল।
তার মুখের গম্ভীরতা দেখে গেনগেতসু মৃদু হেসে বলল,
‘‘তুমি এখনো নিজেকে বোকা বানিয়ে রাখছো? আই... থাক, এই নামটা বললেই পুরোনো বন্ধুর কথা মনে পড়ে, তোমাকে চতুর্থ বলেই ডাকব। আসলে তুমি মনে মনে উত্তরটা জানো। তাই তো, চতুর্থ?’’
‘‘না! এটা অসম্ভব!’’
চতুর্থ রাইকাগে আইয়ের বিশাল মুষ্টি শক্ত হয়ে উঠল, দৃষ্টি গেনগেতসুর ওপর স্থির, কোনো খুঁটিনাটি ছাড়ল না।
‘‘তুমি তো পাঁচ দশকেরও বেশি আগে মারা গেছো! পুনরুত্থান অসম্ভব! কেউ এটা পারেনি!’’
যদি গেনগেতসু সত্যিই ফিরে আসে, নিনজা বিশ্বের জন্য সেটা হবে এক ভয়াবহ বিপর্যয়।

চতুর্থ রাইকাগে আই চায়নি এমন কিছু ঘটুক।
কিন্তু সবসময়, সবকিছু তার ইচ্ছেমতো চলে না।
বেষ্টিত ক্লান্ত, এক রকম মুখভঙ্গি করা ক্লাউড নিনজাদের দিকে তাকিয়ে, গেনগেতসু মাথা নেড়ে শান্ত স্বরে বলল—
‘‘মানুষ সাধারণ নয়, কারণ তার সীমা মাত্র এতটুকু। বরং সে নিজের জন্য নিজেই সীমা তৈরি করে।’’
‘‘অন্যরা যা পারে না, আমি পারি না—এটা সত্যি নয়।’’
‘‘কারণ আমি... হাগোরোমো গেনগেতসু!’’
এই নাম উচ্চারিত হতেই, দেবতার পতনের উপত্যকা নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন হলো।
‘‘বি! তাড়াতাড়ি আইকে নিয়ে সরে যাও! শুধু তোমরা কেউ এই কাজ শেষ করতে পারবে না।’’ গিউকি কিরাবিকে গম্ভীর স্বরে বলল।
সে নিজে কখনো গেনগেতসুর সাক্ষাৎ পায়নি, কিন্তু তার কথা শুনে তার স্মৃতিতে ফিরে এল এক অন্য পুরুষের ছায়া—
সেনজু হাশিরামা।
ধ্বংস আর বিপর্যয়ের প্রতীক ছিল যে দানবেরা, তার হাতে তারা খেলনার মতো অসহায় হয়ে পড়ত।
এ অভিজ্ঞতা যার হয়েছে, সে আর কখনো চাইবে না সেই সময়ের কিংবদন্তি, হাশিরামার যুগের প্রতিদ্বন্দ্বী কারো মুখোমুখি হতে।
এ কথা শুনে কিরাবি এবার সত্যিই গম্ভীর হলো।
তবে সে বড় ভাইকে কিছু বলল না, কারণ সে জানে ভাইয়ের চরিত্র কেমন। সে শুধু দুই হাতে তলোয়ারের হাতল ধরে, নির্দেশের অপেক্ষা করতে লাগল।
ঠিক তাই-ই ঘটল।
যদিও গেনগেতসুর পুনর্জীবনের খবর সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল, কিন্তু গৌরবময় রাইকাগে, শুধু ভয় পেয়ে পালাবে—এটা আই কিংবা তার সহযোদ্ধাদের স্বভাবে নেই।
তীব্রভাবে তার সাদা চাদর আকাশে ছুড়ে দিল।
তার পেশীবহুল কালো শরীর উদ্ভাসিত, দৃপ্ত চোখে যুদ্ধের দীপ্তি নিয়ে গর্জে উঠল—
‘‘তুমি সত্যিই ফিরে এসেছো, নাকি ভূতের মতো? যাই হোক, তোমাকে আবার তোমার জায়গায় ফিরিয়ে দেব এবার!’’
‘‘তাই?’’
গেনগেতসু মাথা একটু কাত করল, নির্লিপ্ত স্বরে তিনটি শব্দ উচ্চারণ করল—
‘‘তুমি উপযুক্ত?’’
‘‘হামলা!’’
চতুর্থ রাইকাগে চোখে শীতল ঝলক নিয়ে গর্জে উঠল, ক্লাউড নিনজা বাহিনীকে নেতৃত্ব দিল আক্রমণে।
‘‘বজ্রচ্ছেদনী স্তম্ভ!’’

প্রথমেই, কয়েকজন ক্লাউড নিনজা দুই হাত জোড়া মেরে প্রবল বিদ্যুৎ জ্বালিয়ে তুলল, গেনগেতসুর সামনে তীব্র আলো ছড়িয়ে দিল।
এই কৌশলটি দেখতে চোখ ধাঁধানো হলেও, আসলে এতে প্রবল আলোয় শত্রুকে বিভ্রান্ত করে, অজান্তেই জাদুতে ফেলে দেওয়া হয়।
অনেকেই এই ফাঁদে পড়ে যায়।
গেনগেতসু মুচকি হেসে বলল, ‘‘এতটা আলো যথেষ্ট নয়, আরও জোরে দাও।’’
আলো আরও বেড়ে গেল।
এই সময়, এক বিশালদেহী ছায়া আলোকে পিঠে রেখে, তীব্র বজ্রশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

আবার সেই চেনা আঘাত, মহা প্রবাহ বিস্ফোরণ।
গেনগেতসুর চোখে স্মৃতির ঝলক খেলে গেল।
তারপর...
চটাস!
একটি ইস্পাত কঠিন হাত দৃঢ়ভাবে আক্রমণকারী বিশাল বাহু চেপে ধরল।
‘‘রাইকাগে... চিরকালই তাড়াহুড়োয় ভরপুর।’’
গেনগেতসু কাছে থাকা চতুর্থ রাইকাগে আইয়ের দিকে তাকিয়ে শান্তভাবে বলল—
‘‘তোমরা আগে এসে গেছো, তাই তোমাদের দিয়েই শুভ সূচনা হোক।’’
‘‘তুমি আজগুবি কী বলছ?’’
কিছু বুঝে ওঠার আগেই, রাইকাগে আইয়ের অন্য হাত তলোয়ারের মতো রূপ নিয়ে আবার গর্জে উঠল।
গর্জন!
প্রবল শক্তিতে ভূগর্ভে বিশাল খাদ তৈরি হলো, গেনগেতসু ও আইয়ের পায়ের নিচে।
মাঝখানে দাঁড়িয়ে, চারপাশে চাপা গর্জনে, গেনগেতসু নিজের হাতে শক্ত করে ধরে থাকা চতুর্থ রাইকাগে আইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল—
‘‘কিংবদন্তি আবার ফিরে এসেছে, চাই ফুলেল শুভেচ্ছা ও করতালি, তবেই উৎসব জমে ওঠে।’’
‘‘ক্লাউড নিনজার রক্ত, রাইকাগের হাত। চতুর্থ, বলো তো, এভাবে যথেষ্ট জমজমাট হলো তো?’’
রাইকাগে আই এবার বুঝল গেনগেতসু কী বোঝাতে চেয়েছে।
‘‘তুমি...’’
অবর্ণনীয় ক্রোধে সে আবার বজ্রশক্তি জড়ো করতে উদ্যত হলো।
গেনগেতসু হঠাৎ সামনে ঝুঁকে, কাঁধের জোরে আইকে ছুঁড়ে ফেলল।
পরের মুহূর্তে, শরীর ঘুরিয়ে, হাতের তালু ঘুরিয়ে, একখানা কুনাই হাতে নিয়ে সামনে থেকে আসা তলোয়ারের আঘাত প্রতিহত করল—
বিভিন্ন অদ্ভুত কোণ থেকে ছুটে আসা তলোয়ারের ঝলক একে একে রুখে দিল।
‘‘ওহো, সব ঠেকাতে পারলে? তাহলে সাতটি তলোয়ার একসাথে হলে কেমন হয়? এবার উপভোগ করো, আমার নাচের ঝড়!’’
অদ্ভুত সুরে কিরাবি এগিয়ে এলো।
দুই তলোয়ারে ফল না দেখে, তার শরীর কেঁপে উঠল, সাতটি নিনজা তরবারি মুহূর্তেই বেরিয়ে এলো।
শরীরের বিভিন্ন অংশে夹ে নিয়ে, কিরাবি হঠাৎ পুরো শরীর ঘুরিয়ে অদ্ভুত শারীরিক কৌশলে সাতটি তরবারি একসাথে এমন গতিতে চালাতে লাগল, কোনো দিক থেকে কখন আঘাত আসছে বোঝা দায়।
চিড়চিড় শব্দে কালো চাদরে ফাটল ধরল, কিরাবি একেবারে অপ্রত্যাশিত কোণ থেকে আসা আঘাত গেনগেতসু অল্পের জন্য এড়াল।
‘‘চমৎকার তলোয়ার চালানো।’’

‘‘তবু, নাচটা যথেষ্ট জমল না।’’