২৩তম অধ্যায়: উত্তেজনা
নথিপত্র দেখার পর, মেঘজ্যোতি বুঝতে পারল কেন বক্তৃতার খসড়া এত জটিলভাবে তৈরি হয়েছে, তিনবার আসা-যাওয়া করে সংশোধন করা হয়েছে। আসলে এটি প্রধানকে বাইরে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তৈরি, পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্মান জড়িয়ে আছে এতে। প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজে অংশগ্রহণ করতে পেরে মেঘজ্যোতি বেশ খুশি; কেবল খসড়া কাজে লাগার সাফল্য নয়, প্রধানের মনে ভাল ছাপ ফেলার সুযোগও, গতকালের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।
তরুণদের অনুভূতি সহজেই ওঠানামা করে; একটু আগেও মন খারাপ ছিল, এখন আবার বেশ উৎফুল্ল। মেঘজ্যোতি নথি গোছাতে গোছাতে জিজ্ঞেস করল, ‘‘গুপ্তদা, আমি দেখলাম, গতকাল লেখা বক্তৃতার খসড়া তো প্রধানের জন্য, তুমি কি মনে করো প্রধান সেটা পছন্দ করবেন?’’
‘‘আমি তো প্রধান নই, কী করে জানব? তুমি নিজে কী ভাবো?’’
‘‘আমার তো মনে হয়, আমি যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে লিখেছি, যতটা পারা যায় করেছি, এর চেয়ে ভালো আর কী করতে পারতাম।’’
‘‘চেষ্টা করেছো, এটাই যথেষ্ট। প্রথমবার অফিসিয়াল নথি লিখলে এই পর্যন্ত আসাটাই কম কিসে।’’
‘‘তুমি তাহলে আমার প্রশংসা করছো?’’
‘‘নিজেই ভেবে দেখো।’’
এ কথাটাই গুপ্তদার মুখে সবসময়, ‘‘নিজেই ভেবে দেখো’’ বলে এড়িয়ে যায়, তবু মেঘজ্যোতি খুব উচ্ছ্বসিত। প্রথমবার রিপোর্ট লিখে এত বড়ো কাজে লাগা সত্যিই অনুপ্রেরণার। আজকের নথিগুলো একে একে ভাগ করে রাখল, রেকর্ড তৈরি করল, প্রস্তুত করল বিভিন্ন বিভাগে পাঠানোর জন্য।
এমন সময় হাসির এক মৃদু আওয়াজ, যেন রূপার ঘণ্টার মতো কানে বাজল—সামাজিকী অফিসে প্রবেশ করল।
‘‘ওহ, সবাই এত সকালে অফিসে!’’ প্রবেশ করেই ঠাট্টা, ‘‘আসলে আমি দেরি করলাম। গত দুদিন ধরে স্যারের পদোন্নতি উদযাপনে খুব কষ্ট হয়েছে। পরশু তো লী বিভাগীয় প্রধানের জন্য পার্টি দিলাম, এক বাক্স দামি মদ শেষ হয়েছে, সকলে এত মদ্যপান করেছে যে পড়ে আছে যেন মৃত কুকুর, চারপাশে বমি। কিন্তু লী বিভাগীয় প্রধান দেখো, আজই একটা ফাইল নিয়ে সোজা প্রধানের কাছে হাজির। বাকিরা মাথা তুলতে পারছে না।’’
মেঘজ্যোতির মাথায় বজ্রাঘাতের মতো বাজল—আসল ব্যাপার এটা! নিজের দক্ষতা পরীক্ষার জন্য নয়, বরং কাজে লাগিয়ে দিয়ে অন্যের কৃতিত্ব হয়ে গেল! নিজের কষ্টার্জিত খসড়া তাহলে লী কুকুরটার কৃতিত্ব হয়ে গেল? যত ভাবছে, ততই রাগ বাড়ছে। নথি রেখে উঠে দাঁড়াল, লী বিভাগীয় প্রধানের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল।
চেয়ার পড়ে যাওয়ার শব্দে সামাজিকী থমকে গেল, তার গর্বিত কথাবার্তা আটকে গেল।
গুপ্তদা তাড়াতাড়ি উঠে মেঘজ্যোতির হাত চেপে বলল, ‘‘অস্থির হইস না, আগে দেখে শুনে নে।’’
গুপ্তদা সামাজিকীকে জিজ্ঞেস করল, ‘‘তুই দেখেছিস, লী বিভাগীয় প্রধান এখন কোথায়?’’
‘‘দেখেছি তো, সে প্রধানের অফিসে গেছে।’’
মেঘজ্যোতি আর থাকতে পারল না, টেবিলের নোটিস তুলে নিয়ে দ্রুত প্রধানের অফিসের দিকে এগিয়ে গেল।
‘‘এ কী রে! কিসের এত রাগ? আমি আবার কী করলাম? আমার যোগাযোগ দেখেই তো হিংসে করছে। ছোট বেয়াদবটা!’’ সামাজিকী মেঘজ্যোতি বেরোলে গজগজ করে।
‘‘আশা করি ছেলেটা বড়ো ছবি বুঝবে, আমাকে হতাশ করবে না,’’ গুপ্তদা নিজেই বিড়বিড় করল।
মেঘজ্যোতি নথি হাতে অফিসের দরজায় এসে দাঁড়াল। হাত তুলতে গিয়ে হঠাৎ নিজেকে সামলাল। এভাবে ঢুকে কিছুই হবে না। গভীর শ্বাস নিয়ে, মুখ টিপে হাসল, যদিও মনে হচ্ছিল কান্না চাপছে।
নিজেকে শান্ত করার জন্য বারবার শ্বাস নিল, ঠান্ডা হাত দিয়ে মুখ ঠান্ডা করল, মুখ সোজা করল, তারপর দরজায় টোকা দিল।
‘‘এসো,’’ প্রধানের কণ্ঠ ভেসে এল।
শেষবার মনে স্থিরতা এনে, দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকল।
অফিস ঘর আলোয় উজ্জ্বল, প্রধান বড়ো টেবিলের পিছনে সিগারেট ধরিয়ে বসে আছেন, ধোঁয়া ঘরে ভাসছে। লী বিভাগীয় প্রধান টেবিলের অপর পাশে, প্রধানের ঠিক সামনে, বেশ ফুরফুরে হাস্যোজ্জ্বল।
মেঘজ্যোতি ধীরে ধীরে এগিয়ে বলল, ‘‘স্যার, একটা ফাইল, দয়া করে দেখবেন।’’
লী বিভাগীয় প্রধান অবাক হয়ে চেয়ে থাকল, হাত তুলতে গিয়ে নামিয়ে ফেলল, চোখে একটা বিদ্রূপের হাসি—‘‘তুই কী করতে পারিস?’’
অফিস টেবিলের উপর লাল রঙের সিগারেট বাক্সের নিচে নিজের হাতে লেখা বক্তৃতার খসড়া, প্রতিটি অক্ষর আগের রাতের ঘুমহীনতার ফল। মনে হল, ওরা যেন প্রাণ পেয়ে বাবা’র কাছে ফিরে যেতে চাইছে।
মেঘজ্যোতি নিঃশ্বাস আটকে ফাইল রাখল খসড়ার পাশে।
‘‘ওখানেই রাখো,’’ প্রধান আরেকটা সিগারেট ধরালেন, ইশারা করলেন বেরিয়ে যেতে।
লী বিভাগীয় প্রধানের চোখে হাসির রেখা, যেন বলছে, ‘‘তুই কী করতে পারিস?’’
মেঘজ্যোতি পিছু ফিরে মুখ লুকিয়ে, পা টেনে ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল, দরজা বন্ধ করার সময় শব্দটা একটু জোরে হল।
নিজ অফিসে ফিরে এসে চুপচাপ মুষ্টিবদ্ধ হাত শক্ত করল, মনের ভেতর নিজেকে বোঝাতে লাগল।
‘‘রাগ করিস না, ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হবি,’’ গুপ্তদা কাঁধে হাত রাখল।
‘‘রাগ করছি না, শুধু ভাবছি, এসব কি সত্যিই মেনে নিতে হবে?’’
গুপ্তদা কিছু বলল না, চুপচাপ নিজের জায়গায় ফিরে গেল।
‘‘মেঘজ্যোতি, ওই ফাইলটা কি তুই লিখেছিস?’’ সামাজিকীর অনাহুত প্রশ্ন। ‘‘এ ধরনের ঘটনা অফিসে স্বাভাবিক, খাটনি আমরা করি, কৃতিত্ব ওপরওয়ালারা নেয়, দোষও আমাদের, আফসোস!’’
সামাজিকী এমনভাবে বলল, যেন তার অভিজ্ঞতা পূর্বেই আছে। বড়োরা ছোটদের কাজ নিজের নামে চালায়—এটা কর্মজীবনে বিরল নয়, তবে সরাসরি অন্যের কাজ নিয়ে কৃতিত্ব নেওয়া বেশ বাড়াবাড়ি। অন্তত নেতৃত্বের সামনে নিচের কর্মীর কথা বলা উচিত, দলগত প্রচেষ্টার কথা বলা উচিত, প্রধানের কৃতিত্ব তো থেকেই যায়। এখন এই লী বিভাগীয় প্রধান刚刚 এসেছেন, এর মধ্যেই এতটা কদর্য ব্যবহার দেখতে খারাপই লাগে।
অফিসে এমন ঘটনা নতুন নয়, আজ প্রথম বা শেষও নয়। হয় প্রতিবাদ, নয়তো সহ্য করা—কর্মজীবনে টিকে থাকতে হলে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। মেঘজ্যোতির মনে প্রবল দ্বন্দ্ব চলছিল, যদিও মন চাইছিল না, তবু অফিসে মুখোমুখি না হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল—সহ্য করবে। নিজেকে বোঝাল, ‘‘কষ্ট না পেলে মানুষ বড়ো হয় না, প্রতিশোধের দিন আসবেই।’’
গুপ্তদা বুঝেছিল মেঘজ্যোতির ভেতরের টানাপোড়েন, এ সময় কেউ কিছু বললেও কাজ হয় না, কষ্ট নিজেকেই নিতে হয়, অন্য কেউ ভাগ করে নিতে পারে না। বারবার ধাক্কা খেয়েও যে উঠে দাঁড়াতে পারে, সেই প্রকৃত সাহসী। মেঘজ্যোতির সহ্যশক্তি ও সিদ্ধান্ত, এবং কতদূর যেতে পারবে—সব তার নিজের হাতে। গুপ্তদা মনে মনে ভাবল, এবার একটু সাহায্য করা যাক, শেষ ক’দিনে ছেলেটার উন্নতি বেশ ভাল—ভেবেচিন্তে চলে, ধৈর্য আছে, প্রতিভাও আছে—এমন কাউকে পাশে রাখা যায়।
সহায়তা করারও ধরন আছে, হুটহাট সামনে গিয়ে সাহায্য করতে গেলে উল্টো সমস্যা বাড়তে পারে। মানুষের গুণাগুণ গড়ে তোলা সময়সাপেক্ষ, আজ কষ্ট করলে ভবিষ্যতে বড়ো দায়িত্ব নিতে পারবে।
মেঘজ্যোতি খুব কষ্টে রাগ সামলাল, ভাবল, সে তো একেবারে নতুন, ক্ষমতা নেই, প্রভাব নেই, পেছনে কেউ নেই। এই চাকরিতে টিকে থাকতে পারাটাই অনেক, আর কী বা আশা করতে পারে? কেবল এক দিন সময় নষ্ট হল, এ আর এমন কী? হতভাগা মাচাও তো তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছে, অর্ধেক জীবন হারিয়েও কিছু পায়নি।
নিজের দুর্ভাগ্য ভাবার সময়, যদি দেখো পাশের কেউ আরও দুর্ভাগ্য, মন হালকা লাগে।
আকিউ-র মনস্তত্ত্বই টিকে থাকার শ্রেষ্ঠ কৌশল।
মেঘজ্যোতি আবার নথি গোছাতে শুরু করল, এখনও বেশ কিছু বিভাগের নথি বাকি, দ্রুত গোছাতে হবে, যাতে মনটাও গুছিয়ে ফেলা যায়।
অত্যন্ত রাগ থেকে একেবারে নিরাসক্তিতে পৌঁছতে মাচাও-র তুলনাই যথেষ্ট। মেঘজ্যোতি ধীরে ধীরে অফিসে অফিসে ঢুকে, ক্লান্ত ভঙ্গিতে ফাইল জমা দিল, সবার মনে হল রাতে ঘুম হয়নি। ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহকর্মী খোঁজ নিল, অসুস্থ কিনা।
আলস্যে কাজ করলে একবারে মজা পাওয়া যায়, নথি বিলি করতে যেখানে আধঘণ্টা লাগার কথা, সারা সকাল কেটে গেল। ফিরে এসে দেখল, প্রায় দুপুর হয়ে গেছে। ডেস্কে মাথা ঠেকিয়ে বলল, ‘‘খুব খিদে পেয়েছে, খেতে চাই।’’
মনে রাগ থাকলেও, নিজের মধ্যে সেটা বদলে ফেলেছে; ঘৃণা, ক্ষোভ গভীরে পুঁতে রেখেছে।
দুপুরের খাবার বেশ পুষ্টিকর: ভাজা ছোট মাছ, কয়েক টুকরো ডাল, আর ডাল-সুপ—শরীর ঠিক রাখার খাবার। খেয়ে বাড়ি ফেরার সময় আজ শরীরে অদ্ভুত দুর্বলতা—সাইকেল চালাতে মনে হল পায়ে তুলা জড়ানো, শক্তি নেই।
বাড়ি পৌঁছে, মাথায় ঘাম হলেও শরীরে গরম লাগল না।
‘‘আজ ছোট মাছ আছে, খাও দেরি কোরো না,’’ মেঘজ্যোতি চেষ্টা করল হাসিমুখে স্ত্রীকে তাড়াতে।
কিনলান স্বামীর পা ফেলার আওয়াজেই বুঝে গেল কিছু একটা ঠিক নেই। এত বছর একসঙ্গে কাটিয়ে, অল্প পরিবর্তনও চোখ এড়ায় না। আজ তাই জিজ্ঞেস করল, ‘‘কি হয়েছে? কোনো ঝামেলা?’’
‘‘কিছু না, কিছু না, তাড়াতাড়ি খাও।’’
দু’বার ‘‘কিছু না’’ বলল মানে নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে, না হলে এত জোর দিয়ে বলত না। পুরুষরা কখনো কখনো এমনই।
‘‘বলো, আমি কোনো উপায় বাতলাতে পারি কিনা।’’
‘‘গতকাল যে বক্তৃতার খসড়া লিখেছিলাম, রাতভর পরিশ্রম করে, আজ সেটা লী প্রধানের কৃতিত্ব হয়ে গেল। নিচুতে কাজ করা সত্যিই কঠিন।’’
‘‘তুমি গিয়ে ঝামেলা করোনি তো?’’
‘‘আমি কি এতটা বোকা? ওদের টেবিলে ভাত খাই, আবার ওদের টেবিল ভাঙব?’’
‘‘এই তো ভালো করেছো, উত্তেজিত হবে না। দেখো, ও তোমার খসড়া নিয়ে কৃতিত্ব নিতে পারল মানে তুমি ভালো লিখেছো। আজ হয়েছে, প্রতিবার কি পারবে? চিন্তা কোরো না, সামনে আরও সুযোগ আসবে।’’
‘‘জানি, তবু মন মানে না।’’
‘‘আচ্ছা এখন খাও, ঘুমিয়ে নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’’ কিনলান চুমু খেয়ে স্বামীকে সান্ত্বনা দিল।
মেঘজ্যোতি একটু হাসল, খেতে শুরু করল।
বক্তৃতার খসড়ার ঘটনা কয়েকদিন হয়ে গেছে, মেঘজ্যোতি ধীরে ধীরে মনের অবস্থা ঠিক করল। যেহেতু এই ব্যবস্থায় এসেছে, নিয়ম মানতে হবে। নিয়ম ভাঙলে হয় চাকরি ছাড়তে হবে, নয়তো একঘরে হয়ে পড়বে।
হতভাগা মাচাও এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর ফিরল, একেবারে ভয়ে চুপচাপ। অফিসে ঢুকে কোণায় গুটিয়ে থাকল, যেন অদৃশ্য। কতটা শক্ত মানসিকতা থাকলে এভাবে ফিরতে পারে! মাচাও সহ-উপ-প্রধানকে মেরেছে, সামনে দিনগুলো কীভাবে চলবে?
সবাই ভেবেছিল মাচাও অন্য কোথাও বদলি হবে, অন্তত পুরনো গ্রামে গিয়ে ছোট পদে কাজ নেবে, সহ-উপ-প্রধানকে এড়াবে। জেলা প্রশাসক তো দিনের চেয়ে রাত বেশি চেনে, সরাসরি বস না হলে সমস্যা হবে না। হয়তো নিজের চেষ্টা যথেষ্ট ছিল না, হয়তো শহরের জীবন ছাড়তে পারেনি—তবু সে এল।
খুব চুপচাপ ছিল বলে বেশিরভাগই জানত না সে ফিরেছে; কিন্তু এই অফিসে খবর ছড়াতে সময় লাগে না, দারোয়ান পর্যন্ত জানিয়ে দিল।
গুজব ছড়াতে সবারই আগ্রহ।
মেঘজ্যোতি সম্ভবত প্রথম দারোয়ান থেকে খবর পেল, কৌতূহলবশত আরও কিছু জিজ্ঞেস করল। সে নিজে কিছু বলেনি, বিপদ বাড়ে কথা বললে। ফিরে এসে গুপ্তদার সঙ্গে আলোচনা করল, ‘‘মাচাও কেন ফিরল? নতুন কোথাও চলে গেলেই পারত।’’
‘‘তুই ভাবিস বদলি এত সহজ? প্রতিটা পদের জন্য একজন লোক, খালি কোথাও নেই।’’
‘‘গ্রামে ফিরলেও তো পারে।’’
‘‘ও কি কষ্ট সহ্য করার লোক? গ্রামে থেকে খুশি থাকলে এখানে আসত কেন? ফিরে গেলে তো লজ্জায় মরে যাবে।’’
‘‘তবে সারাদিন চুপচাপ থাকবে? সহ-উপ-প্রধান কী ছেড়ে দেবে?’’
‘‘ওটা নিয়ে ভাবিস না, ছোট মুন্নি এলে জিজ্ঞেস করিস কীভাবে সামলাচ্ছে।’’
‘‘মুন্নি দিদি, থাক, আমি ঝামেলায় জড়াতে চাই না।’’
সামাজিকী প্রত্যেক সকালে দেরি করে আসে, দশটার পর। এসে হয় মেকআপ ঠিক করে, নয়তো নানা ম্যাগাজিন পড়ে, যেমন ‘গল্পের আসর’, ‘চলচ্চিত্র পত্রিকা’, ‘বন্ধুত্ব’ ইত্যাদি। মেঘজ্যোতি বুঝতে পারে না, এসবের কী আকর্ষণ।
তবু কৌতূহল দমন করতে না পেরে সামাজিকীর কাছে মাচাও-র ব্যাপার জানতে চাইল।
মেঘজ্যোতি খানিক বুদ্ধি খাটিয়ে সরাসরি না জিজ্ঞেস করে গুপ্তদার সঙ্গে আলাপ জমাল, ‘‘তুমি কী বলো, মাচাও আজ কেন এল?’’
গুপ্তদা সব বুঝে চুপচাপ খবরের কাগজ পড়তে লাগল, কিছু বলল না।
একটু পরে সামাজিকী বুঝল কাদের কথা হচ্ছে। সে জানত ভিতরের খবর, গোপন তথ্য জানার ব্যাপারে তার জুড়ি মেলা ভার।
‘‘হুঁ, জানো না তো, আমি জানি। মাচাও আবার গোপনে অনেক চেষ্টা করেছে—উপহার, খাওয়াদাওয়া—সবই করেছে, অনেক খরচ হয়েছে।’’